-সে টাকা নাহয় আমি দিলাম। তোদের চাকরিটা তো আর করে দিতে পারলাম না। আর হীরুও কিছু দিও পারলে। মিকিভাইয়ের বিয়ের পর প্রথম কাত্তিকপূজো বলা কথা। কার্তিক তো ফেলতেই হয়। কী বল সৌণক?
-একদম। তাহলে অর্ডার দিয়ে দিই আমাজন থেকে। আগেরবার করেছিলাম যেরকম... বলতে বলতেই থেমে গেল বুড়োদা। মুহুর্তে ছড়িয়ে পড়ল নীরবতা। আমরাও দেখলাম ভুলোদার মুখটা বিরিয়ানির হাঁড়ি চাপা দেওয়ার কাপড়টার মতো লাল হয়ে গেল। জুলিয়াস সীজারের মতো গলায় ভুলোদা আর্তনাদ করে উঠলো, "সৌণক, তুমি!" তারপর গটগট করে বাড়ির দিকে চলে গেল আমাদেরকে পিছনে ফেলে।
বুঝলেন না তো! বুঝতে গেলে আপনাদের ফিরে যেতে হবে ঠিক একবছর আগের কার্তিকপুজোর দিনে। তখন সবে আমাদের ভুলোদার বিয়ে ঠিক হয়েছে। মাস তিনেক পরে ডিসেম্বরে বিয়ে। এমনসময় হীরুদার ফোন, ভুলোদা নাকি পাগল হয়ে গেছে। হীরুদা যাচ্ছিল মোষখাটালের মোষেদের গা ধোয়াতে।তখন নাকি ভুলোদাকে জিপিওর সামনে এক কাঁধে একটা কার্তিকঠাকুর অন্য কানে ফোন নিয়ে উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখা গেছে।
আমাদের তখন কাজ বলতে কলেজ ইউনিয়নে আড্ডা দেওয়া আর বিকেলের দিকে ভুলোদার বাড়ি গিয়ে লেগপিস-ডানহিল সমেত সরকারের তুলোধোনা করা। কার্তিকপুজো থাকায় কলেজেও ছুটি। আমরা পত্রপাঠ গিয়ে হাজির হলাম ভুলোদার বাড়ি। মোষেদের স্নানাদি
ও অন্যান্য প্রাত্যহিক কাজকর্ম সেরে হীরুদার আসতে দেরী হয়েছিল একটু। যাইহোক, গিয়ে দেখি ভুলোদার প্রাসাদোত্তম বাড়ির সামনে আমাদের সেমিকম্যুনিষ্ট ভুলোদা চুপচাপ বসে আছে আর ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে কাঁদছে। পাশে পড়ে আছে সেই কার্তিকঠাকুর যার ময়ূরটি লেজ হারিয়ে ময়ূরীতে পরিণত হয়েছে। আর ভুলোদার পোষা নেড়িকুকুরটা অনেকক্ষণ ময়ূরের সাথে ভাব জমানোর বৃথা চেষ্টা ছেড়ে কার্তিকের তীরটা দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করছে।
আমরা কাছে যেতেই ভুলোদা আমাদের হাতে ডানহিলের প্যাকেটটা এগিয়ে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, "কেউ আমার ভালো চায় না।"
কথায় কথায় জানতে পারলাম আজ সকালে ভুলোদার বাড়িতে আমাজন থেকে একটা অর্ডার এসেছিল ক্যাশ অন ডেলিভারীতে। সেটা খুলে নাকি দেখা যায় তাতে একটা কার্তিকঠাকুর আর একটা চিরকূট। তাতে লেখা, "বাবা, আমি আগেই এসে গেলাম। তুমি জলদি মা'কে নিয়ে এসো।" কিন্তু ততক্ষণে ডেলিভারীবয় বাইক চড়ে হাওয়া। তারপর আমাজনে বেশ কয়েকবার ফোন করেও ওরা ওটা ফেরত নিতে চায়নি। বিক্রি হওয়া ঠাকুর নাকি ওরা ফেরত নেয় না। ক'দিন আগের গনেশপুজোর পর মুম্বাইতে নাকি পুজো হওয়া গনেশ ফেরতের লাইন লেগে গিয়েছিল। তাতে নাকি আমাজনের বেজায় ক্ষতি হয়েছে।
যাইহোক, এরপর জিপিওতেও গিয়েছিল আমাদের ভুলোদা যেখানে হীরুদা দেখেছে। কিন্তু তারা নাকি পরামর্শ দিয়ে পুজো করে ফেলার। অগ্রিম নিমন্ত্রণও চেয়ে রেখেছে তারা।
আমরাও সেই পরামর্শই দিলাম। পুজো করে নাও ভুলোদা। তা শুনে ভুলোদা বলে উঠলো, "তুমি বুঝতে পারছো না রাজর্ষি। আমি এখন অবিবাহিত। এই অবস্থায় কার্তিক পুজো করলে ছি ছি পড়ে যাবে। আমার আর বিয়ে হবে?" আমরা বললাম, "কিন্তু ঠাকুর যদি পাপ দেয়! কার্তিকঠাকুরের পাপ তো আর যে সে পাপ নয়!" কিন্তু ভুলোদা তার সিদ্ধান্তে অটল।
ইতিমধ্যে হীরুদাও এসে গেছে। ফেলুদা, ব্যোমকেশ আর কিরীটী এক হয়ে যা বোঝা গেল তা হলো এই যে কেউ ভুলোদার প্রাইম অ্যাকাউন্ট ইউজ করে অর্ডার দিয়েছে কার্তিকটা। কিন্তু সেই অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পাড়াশুদ্ধু লোকের জানা থাকায় আর জানা যায়নি কে বা কারা রয়েছে এই ঘটনার পিছনে।
ঘটনাটা রহস্যই হয়ে ছিল এতোদিন। জানতাম শুধু আমি আর বুড়োদা। আজ বুড়োদা মুখ ফস্কে না বলে ফেললে হয়তো কেউই জানতে পারত না কোনদিন।
যাইহোক, ভুলোদা আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আজ অনেকদিন পর। ভুলোদার প্রিয় অরেঞ্জ চিলিজের থেকে খাবার অর্ডারও দেওয়া হয়েছিল সেইমতো। খাবার এসেও গেছে কিন্তু ভুলোদাই তো হাওয়া। এখন তো আর ভুলোদাকে ফোন করে পেমেন্ট করে দিতে বলা যায় না! নিজের পকেট থেকেই খসবে আজ।
সেদিন অবশ্য ভুলোদা নিরাশ করলেও পাড়ার লোকেরা কিন্তু নিরাশ করেনি। তারাই শেষমেশ চাঁদা তুলে বামুন ডেকে পুজোর ব্যবস্থা করে। ভুলোদার কাছের লোক বলে রাতের খিচুড়িভোগে রীতিমতো নিমন্ত্রণও জানিয়েছিল আমাদের। গিয়ে দেখি, প্যান্ডেলের ভিতরে সেই কার্তিক ঠাকুর যার হাতে তীর না থাকায় কেউ একটা ডান্ডা ধরিয়ে দিয়েছে। আর প্যান্ডেলের উপর লেখা, "বাবা আমায় ঘরে ঢুকতে দেয়নি তাই পাড়ার কাকুরা থাকতে দিয়েছে।"
-একদম। তাহলে অর্ডার দিয়ে দিই আমাজন থেকে। আগেরবার করেছিলাম যেরকম... বলতে বলতেই থেমে গেল বুড়োদা। মুহুর্তে ছড়িয়ে পড়ল নীরবতা। আমরাও দেখলাম ভুলোদার মুখটা বিরিয়ানির হাঁড়ি চাপা দেওয়ার কাপড়টার মতো লাল হয়ে গেল। জুলিয়াস সীজারের মতো গলায় ভুলোদা আর্তনাদ করে উঠলো, "সৌণক, তুমি!" তারপর গটগট করে বাড়ির দিকে চলে গেল আমাদেরকে পিছনে ফেলে।
বুঝলেন না তো! বুঝতে গেলে আপনাদের ফিরে যেতে হবে ঠিক একবছর আগের কার্তিকপুজোর দিনে। তখন সবে আমাদের ভুলোদার বিয়ে ঠিক হয়েছে। মাস তিনেক পরে ডিসেম্বরে বিয়ে। এমনসময় হীরুদার ফোন, ভুলোদা নাকি পাগল হয়ে গেছে। হীরুদা যাচ্ছিল মোষখাটালের মোষেদের গা ধোয়াতে।তখন নাকি ভুলোদাকে জিপিওর সামনে এক কাঁধে একটা কার্তিকঠাকুর অন্য কানে ফোন নিয়ে উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখা গেছে।
আমাদের তখন কাজ বলতে কলেজ ইউনিয়নে আড্ডা দেওয়া আর বিকেলের দিকে ভুলোদার বাড়ি গিয়ে লেগপিস-ডানহিল সমেত সরকারের তুলোধোনা করা। কার্তিকপুজো থাকায় কলেজেও ছুটি। আমরা পত্রপাঠ গিয়ে হাজির হলাম ভুলোদার বাড়ি। মোষেদের স্নানাদি
ও অন্যান্য প্রাত্যহিক কাজকর্ম সেরে হীরুদার আসতে দেরী হয়েছিল একটু। যাইহোক, গিয়ে দেখি ভুলোদার প্রাসাদোত্তম বাড়ির সামনে আমাদের সেমিকম্যুনিষ্ট ভুলোদা চুপচাপ বসে আছে আর ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে কাঁদছে। পাশে পড়ে আছে সেই কার্তিকঠাকুর যার ময়ূরটি লেজ হারিয়ে ময়ূরীতে পরিণত হয়েছে। আর ভুলোদার পোষা নেড়িকুকুরটা অনেকক্ষণ ময়ূরের সাথে ভাব জমানোর বৃথা চেষ্টা ছেড়ে কার্তিকের তীরটা দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করছে।
আমরা কাছে যেতেই ভুলোদা আমাদের হাতে ডানহিলের প্যাকেটটা এগিয়ে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, "কেউ আমার ভালো চায় না।"
কথায় কথায় জানতে পারলাম আজ সকালে ভুলোদার বাড়িতে আমাজন থেকে একটা অর্ডার এসেছিল ক্যাশ অন ডেলিভারীতে। সেটা খুলে নাকি দেখা যায় তাতে একটা কার্তিকঠাকুর আর একটা চিরকূট। তাতে লেখা, "বাবা, আমি আগেই এসে গেলাম। তুমি জলদি মা'কে নিয়ে এসো।" কিন্তু ততক্ষণে ডেলিভারীবয় বাইক চড়ে হাওয়া। তারপর আমাজনে বেশ কয়েকবার ফোন করেও ওরা ওটা ফেরত নিতে চায়নি। বিক্রি হওয়া ঠাকুর নাকি ওরা ফেরত নেয় না। ক'দিন আগের গনেশপুজোর পর মুম্বাইতে নাকি পুজো হওয়া গনেশ ফেরতের লাইন লেগে গিয়েছিল। তাতে নাকি আমাজনের বেজায় ক্ষতি হয়েছে।
যাইহোক, এরপর জিপিওতেও গিয়েছিল আমাদের ভুলোদা যেখানে হীরুদা দেখেছে। কিন্তু তারা নাকি পরামর্শ দিয়ে পুজো করে ফেলার। অগ্রিম নিমন্ত্রণও চেয়ে রেখেছে তারা।
আমরাও সেই পরামর্শই দিলাম। পুজো করে নাও ভুলোদা। তা শুনে ভুলোদা বলে উঠলো, "তুমি বুঝতে পারছো না রাজর্ষি। আমি এখন অবিবাহিত। এই অবস্থায় কার্তিক পুজো করলে ছি ছি পড়ে যাবে। আমার আর বিয়ে হবে?" আমরা বললাম, "কিন্তু ঠাকুর যদি পাপ দেয়! কার্তিকঠাকুরের পাপ তো আর যে সে পাপ নয়!" কিন্তু ভুলোদা তার সিদ্ধান্তে অটল।
ইতিমধ্যে হীরুদাও এসে গেছে। ফেলুদা, ব্যোমকেশ আর কিরীটী এক হয়ে যা বোঝা গেল তা হলো এই যে কেউ ভুলোদার প্রাইম অ্যাকাউন্ট ইউজ করে অর্ডার দিয়েছে কার্তিকটা। কিন্তু সেই অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পাড়াশুদ্ধু লোকের জানা থাকায় আর জানা যায়নি কে বা কারা রয়েছে এই ঘটনার পিছনে।
ঘটনাটা রহস্যই হয়ে ছিল এতোদিন। জানতাম শুধু আমি আর বুড়োদা। আজ বুড়োদা মুখ ফস্কে না বলে ফেললে হয়তো কেউই জানতে পারত না কোনদিন।
যাইহোক, ভুলোদা আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আজ অনেকদিন পর। ভুলোদার প্রিয় অরেঞ্জ চিলিজের থেকে খাবার অর্ডারও দেওয়া হয়েছিল সেইমতো। খাবার এসেও গেছে কিন্তু ভুলোদাই তো হাওয়া। এখন তো আর ভুলোদাকে ফোন করে পেমেন্ট করে দিতে বলা যায় না! নিজের পকেট থেকেই খসবে আজ।
সেদিন অবশ্য ভুলোদা নিরাশ করলেও পাড়ার লোকেরা কিন্তু নিরাশ করেনি। তারাই শেষমেশ চাঁদা তুলে বামুন ডেকে পুজোর ব্যবস্থা করে। ভুলোদার কাছের লোক বলে রাতের খিচুড়িভোগে রীতিমতো নিমন্ত্রণও জানিয়েছিল আমাদের। গিয়ে দেখি, প্যান্ডেলের ভিতরে সেই কার্তিক ঠাকুর যার হাতে তীর না থাকায় কেউ একটা ডান্ডা ধরিয়ে দিয়েছে। আর প্যান্ডেলের উপর লেখা, "বাবা আমায় ঘরে ঢুকতে দেয়নি তাই পাড়ার কাকুরা থাকতে দিয়েছে।"