শীতটা সবে গেছে। ইদানিং বিকেলের দিকে দিব্বি ফুরফুরে হাওয়া দিয়ে থাকে,
আর আমি আর রাজু নিয়ম করে গড়ের মাঠে বসে ঘাস চিবিয়ে থাকি। বিয়ের পরে ভুলোদা
আমাদের জন্যে বাড়ির বাইরে 'প্রবেশ নিষেধে'র প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে দিয়েছে।
নাঃ, আসলে আমরাই ভুলোদাকে বয়কট করেছি!
দোষটা অবশ্য ভুলোদাকে ঠিক দেওয়া যায় না, বিয়ের পর প্রথম কয়েকদিন বৌদি ভালো ভালো রান্না করতো, আর আমাদের ভুরিভোজের ব্যবস্থা হতো কিন্তু ভুলোদার সেসব চোখে দেখাই সার ছিল, চেখে দেখতে গেলেই বৌদির কটাক্ষে ভুঁড়ি ভস্ম হওয়ার ছিল কিনা। কতদিন ঢ্যাঁড়শসেদ্ধ রুটি খেতে খেতে দেখা যায় যে সামনে বসে অপোগণ্ডের দল প্রেমসে মুরগির ঠ্যাং সাঁটাচ্ছে! আমাদেরই কষ্ট হতো বেচারার জন্যে! গলা দিয়ে নামতেই চাইতো না! কিন্তু বৌদির রান্না এমন অমৃততুল্য যে ভুলোদার রান্নাকেও হার মানিয়ে দেয়, তাই বৌদির কথা ভেবেই কোনোরকমে গলাধঃকরণ করে নিতে হতো আর কি বিরিয়ানী বা মুরগি-রোস্ট।
বেশিদিন চললো না ব্যাপারটা। একদিন এরকম নেমতন্ন খেতে গেছি এরকম, বৌদি ছখানা থালা দিয়ে গেলেন সাজিয়ে রোজের মতন, আমাদের তিন মক্কেলের, বকুলের, সুচিস্মিতাদির আর স্বয়ং ভুলোদার। তার পর সেই থালায় পড়লো খান চারেক করে রুটি, আর সবুজ, গলা পাঁকের মতো এক দলা করে ঢ্যাঁড়শসেদ্ধ, এক্কেরে ছয় এক্কে ছয়টা থালায়!
আমাদের অবাক, হতবাক, বিস্মিত চোখের দিকে তাকিয়ে, ভুলোদা অমায়িক মিহি হেসে বললেন, "ওরে, আমিই তোর বৌদিকে বললাম, যে তুমি শুধু আমার কথাই ভাবলে সোনাই, ওদের কথা ভাবলে না! ওরাও তো রোজ রোজ এত মুরগি মটন খেতে খেতে হাফিয়ে উঠছে, ওদের ও তো প্রাণ কাঁদে ঢ্যাঁড়শের জন্য! তাছাড়া, শৌনকটা এমনিতেই আমার অর্ধেক, চেহারার দিক থেকে আর কি!এবার তো আমাকেও ছাপিয়ে যাবে, শুচি আর হীরেনের বিয়ে, ওদের তো ডায়েট করাই উচিত। আর বকুলব্রত, রাজর্ষি দুটোই পেটরোগা! এবার থেকে আমায় যা দেবে, ওদেরও তাই দেবে।"
তার পর থেকে বৌদির হাজার ফোনেও আর ডিনার করিনি ওবাড়িতে।
সে যাক, কথা হচ্ছে যে ইদানিং আমি আর রাজু একদমই হতাশ, ভবঘুরে আর বেকার। কাজের মধ্যে দুই, খাই আর শুই। তাই ভুলোদার বাড়িতে আজ যাবো ভাবছি। ভুলোদা পার্টির অনেককে চেনে টেনে। তাদের মধ্যে একজন আছেন বিরাট শিবভক্ত, এবং তাঁর হাত প্রচুর লম্বা, মানে যে হাতটা দেখা যায় না সেইটা আর কি। ভদ্রলোকের নাম মিস্টার সাইকেল জয়শ্রীরাম স্কোফিল্ড। দেখি যদি ভুলোদা ধরে কয়ে একটা হিল্লে করতে পারে!
দোষটা অবশ্য ভুলোদাকে ঠিক দেওয়া যায় না, বিয়ের পর প্রথম কয়েকদিন বৌদি ভালো ভালো রান্না করতো, আর আমাদের ভুরিভোজের ব্যবস্থা হতো কিন্তু ভুলোদার সেসব চোখে দেখাই সার ছিল, চেখে দেখতে গেলেই বৌদির কটাক্ষে ভুঁড়ি ভস্ম হওয়ার ছিল কিনা। কতদিন ঢ্যাঁড়শসেদ্ধ রুটি খেতে খেতে দেখা যায় যে সামনে বসে অপোগণ্ডের দল প্রেমসে মুরগির ঠ্যাং সাঁটাচ্ছে! আমাদেরই কষ্ট হতো বেচারার জন্যে! গলা দিয়ে নামতেই চাইতো না! কিন্তু বৌদির রান্না এমন অমৃততুল্য যে ভুলোদার রান্নাকেও হার মানিয়ে দেয়, তাই বৌদির কথা ভেবেই কোনোরকমে গলাধঃকরণ করে নিতে হতো আর কি বিরিয়ানী বা মুরগি-রোস্ট।
বেশিদিন চললো না ব্যাপারটা। একদিন এরকম নেমতন্ন খেতে গেছি এরকম, বৌদি ছখানা থালা দিয়ে গেলেন সাজিয়ে রোজের মতন, আমাদের তিন মক্কেলের, বকুলের, সুচিস্মিতাদির আর স্বয়ং ভুলোদার। তার পর সেই থালায় পড়লো খান চারেক করে রুটি, আর সবুজ, গলা পাঁকের মতো এক দলা করে ঢ্যাঁড়শসেদ্ধ, এক্কেরে ছয় এক্কে ছয়টা থালায়!
আমাদের অবাক, হতবাক, বিস্মিত চোখের দিকে তাকিয়ে, ভুলোদা অমায়িক মিহি হেসে বললেন, "ওরে, আমিই তোর বৌদিকে বললাম, যে তুমি শুধু আমার কথাই ভাবলে সোনাই, ওদের কথা ভাবলে না! ওরাও তো রোজ রোজ এত মুরগি মটন খেতে খেতে হাফিয়ে উঠছে, ওদের ও তো প্রাণ কাঁদে ঢ্যাঁড়শের জন্য! তাছাড়া, শৌনকটা এমনিতেই আমার অর্ধেক, চেহারার দিক থেকে আর কি!এবার তো আমাকেও ছাপিয়ে যাবে, শুচি আর হীরেনের বিয়ে, ওদের তো ডায়েট করাই উচিত। আর বকুলব্রত, রাজর্ষি দুটোই পেটরোগা! এবার থেকে আমায় যা দেবে, ওদেরও তাই দেবে।"
তার পর থেকে বৌদির হাজার ফোনেও আর ডিনার করিনি ওবাড়িতে।
সে যাক, কথা হচ্ছে যে ইদানিং আমি আর রাজু একদমই হতাশ, ভবঘুরে আর বেকার। কাজের মধ্যে দুই, খাই আর শুই। তাই ভুলোদার বাড়িতে আজ যাবো ভাবছি। ভুলোদা পার্টির অনেককে চেনে টেনে। তাদের মধ্যে একজন আছেন বিরাট শিবভক্ত, এবং তাঁর হাত প্রচুর লম্বা, মানে যে হাতটা দেখা যায় না সেইটা আর কি। ভদ্রলোকের নাম মিস্টার সাইকেল জয়শ্রীরাম স্কোফিল্ড। দেখি যদি ভুলোদা ধরে কয়ে একটা হিল্লে করতে পারে!
No comments:
Post a Comment