ভুলোদাকে নিশ্চয়ই ভুলে যান নি ? আর মিকি ভাই কে মনে আছে তো ? ওই যাঁর
গর্দান থেকে পাছা সকলই ছেচল্লিশ আর যিনি ভুলোদার বিয়েতে অক্টোপাসের চাটনি
রান্না করার প্ল্যান করেছিলেন ? না মনে থাকলে 'ভুলোদা এবং মিকিভাই'
খানা একবার ঝালিয়ে নেবেন নাহয়! তা সেইবার ভুলোদার বাড়িতে মিকিভাইয়ের
'হরেনডাস হিমালয়' শুনে হরিবোল বলে পালিয়ে এসেছিলুম আর তিনজনে মিলে বকুলব্রত
(ভুলোদার পাড়াতুতো শ্যালক) এবং ভুলোদাকে যথেচ্ছ ছিছিক্কার করেছিলাম, যা তা
লোকের খপ্পরে পড়ে যায়, নিজেদের কোনো ভালোমন্দ বিচার বোধ নেই এই সব বলে
টলে! কিন্তু পরবর্তী কালে দেখা গেলো মিকিভাই আদতে অত্যন্ত কাজের লোক মশাই!
কিভাবে বুঝলাম? অরে রসুন, সেটাই তো গপ্পো!
হীরুদা প্রথম খবরখানা দেয়; হীরুদা আর আমাদের শুচিস্মিতাদিদি সেদিন গড়ের মাঠে হাওয়া খেতে গেছিলো বোধয়, হীরুদা মোষখাটালের ম্যানেজার হওয়ার পর থেকে ওরকম প্রায়ই যাচ্ছে ওরা ! বলে কিনা ভুলোদার সাধের সেকেন্ডহ্যান্ড মারুতিখানায় চড়ে ভুলোদার নতুন ফিটনেস ট্রেনার মিস স্যান্ডা আর আমাদের মিকিভাইও গড়ের মাঠে চক্কর কাটছে!
আমি আর রাজু মিস স্যান্ডার কেসটা জানতাম; মিকিভাইএর মতে, ভুলোদার বিয়ের থিম, 'বিগ বং' যেহেতু দাদার বিশাল বপুর কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে, ভুলোদা যাতে কিছুতেই রোগা না হয়ে যায়, তার জন্যে ভুলোদার উচিত বিয়ে পর্যন্ত ফিগার মেনটেন করা! অতঃপর তাঁরই সুপারিশে মিস স্যান্ডার আগমন!
মিস স্যান্ডা সুন্দরী, তন্বি এবং বাপ্-মা প্রদত্ত সন্ধ্যা নামখানার পক্ষপাতী নন। কিন্তু স্রেফ এই বলে মিস স্যান্ডাকে বর্ণনা করা সম্ভব হবে না! বেশি জটিল না করে শুধু এইটুকু বলি, স্যান্ডার আগমনী গান বাজতেই আমি সুগন্ধার সৌরভ প্রায় ভুলতে বসেছিলাম; রাজুর চাকরির প্রিপারেশনের জন্যে বার বার করে ভুলোদার হেল্প নেওয়ার দরকার পড়ছিলো, আর সেটাও কিনা কাক-ভোরে আর বিকেলগুলোতে যখন ভুলোদার ডায়েট চার্ট ধরে ব্রেক -ফাস্ট আর ডিনার খাওয়া হচ্ছে কিনা দেখতে স্যান্ডা হাজির থাকতো! আর হীরুদা বেচারা , লাইসেন্সের অভাবে আড়চোখে চেয়ে চেয়ে প্রায় টেরা হয়ে যেতে বসেছিল !!
যাই হোক, আমাদের এই বাঁদরামি বেশিদিন চলেনি, হীরুদার চোখ তো শুচিস্মিতাদি দায়িত্ব নিয়ে সরিযে এবং সারিয়ে ফেলে দিন তিনেকের মধ্যেই, রাজুকে স্যান্ডা রাখির দিন রাখি পরিয়ে দিলো, আর আমার তো বিষে বিষক্ষয় হলো একদিন রাস্তায় সুগন্ধাকে পাড়ারই যাদবপুরিয়া এঞ্জিনিয়ার তন্ময়ের সঙ্গে ফুচকা খেতে দেখে ! দুঃখের চোটে স্যান্ডা সন্ধ্যার আলোর মতো ভ্যানিশ!
বকুল কিছুদিনের জন্যে বাড়ি গেছে, সে এই সান্ধ্য-রেসে অংশই নেয় নি!
কিন্তু তাই বলে অমন ৩৬-২৪-৩৬ মেয়ের সাথে ৪৬-৪৬-৪৬ মিকিভাইকে বারবার বহুবার দেখা যেতে দেখলে কিরীটি -ব্যোমকেশের চেলারা কদিন আর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে? চাকরির এই আকালে সময় কাটাতে আমাদের মতো ফেল্টু গ্রাজুয়েটদের ফেলুদারাই তো ভরসা....
তো দিনকতক একটু ঘুরঘুর শুরু করলাম, ভুলোদার পাড়ায় এবং ভুলোদার শ্বশুরবাড়ির পাড়ায়। বকুলের পিছনে টিউশনে গলার রক্ত মুখে আনা পয়সা খরচ হলো আমার এবং রাজুর দুইজনারই! কিন্তু কৌতূহল বড়ো দায়, বিশেষত বেকার জীবনে।
তিন দিন পর রাজুর ফোন, "বুড়োদা, খবর আছে, আজ সন্ধ্যাবেলা হীরুদার বাড়ি।" খবর আমারও ছিল, কাজেই সন্ধ্যেবেলা সন্ধ্যার রহস্য-উন্মোচনে হাজির হলাম হীরুদার বাড়ি।
হীরুদা একলা থাকে, ছোট্ট একখানা ফ্ল্যাটে। ভাড়া করে, সেই কলেজ আমল থেকে। ভুলোদার সাথে আলাপ হওয়ার আগে এটাই ছিল আমাদের 'ডেন'! একদিকে ছড়ানো বই খাতা, একটা তার ছেঁড়া গিটার, একপাশে খাটে ছড়ানো কলেজের টেক্সট বই থেকে ইদানিংয়ের 'তিনদিনে টেট পাশ'! তারই মধ্যে ধুলো টুলো ঝেড়ে বসা গেলো।
রাজুর উৎসাহ চরমে। হিয়ার(রাজুর 'প্রাক্তন চাপ') পরে ওর হিয়াতেই আঘাত বেশি করেছে কিনা স্যান্ডা! হীরুদা চা বসিয়েছে কি বসায়নি , শুরু হয়ে গেলো! "আরে, বাবা রিসেন্টলি একটা চাকরির কোচিঙে ভর্তি করেছে, 'সরকারদার সরকারি চাকরির প্রশিক্ষণ ', সেইখানে যাচ্ছি সন্ধ্যেবেলা এই সপ্তা থেকে। একটা ছেলে আসে, বাইকে চেপে। ইয়া বডি মালটার !আকাশ নাম। কাল কোচিং শেষ হয়েছে, দেখি স্যান্ডা বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। নটা মতো হবে তখন! আমি কথা বলতে যাবো যাবো, এমনি সময় সে আকাশের বাইকে চেপে হুউস! একদম লিপ্টে বসে দুজনে, আর দুজনাতেই বিশাল খুশি....কেসটা জন্ডিস লাগছে হীরুদা!"
হীরুদা আমাদের দিকে চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে বললো, "মিকিভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলুম,কিছু বললো না তেমনি, লাজুক লাজুক হাসি দিয়ে বেরিয়ে গেলো"
আমার খবরটা ওদের দিলাম, সোর্স বকুল, মিকিভাইকে নাকি দিনকয়েক আগে জাভেদ হাবিব থেকে বেরোতে দেখা গেছে, স্পাইক ছেড়ে মিকিভাই নাকি আজকাল চুল রাখার চেষ্টায় আছেন, সঙ্গে হাফ-প্যান্ট ছেড়ে ডেনিম ধরেছেন! আর স্যান্ডা মিকিভাইয়ের টিমে নতুন আমদানি। আগে একটা ছেলে ছিল ফিটনেস ট্রেনার ! সে ছেড়ে দিয়েছে রিসেন্টলি!
রাজু খুব মাথা-টাথা নাড়িয়ে বললো, "ইস, মিকিভাইটাও আমাদের দলে নাম লিখতে চলেছে! আজকালকার দিনে কি অবস্থা! একটা সফল প্রেমও কি নামে না!"
আসলে মনে মনে খুশি হয়েছি না দুঃখ পেয়েছি ঠিক বুঝলাম না! পাপী মন, নিজের সুখের চেয়েও অন্যের দুঃখ দেখতে বেশি ভালোলাগে! তবু, মিকিভাইয়ের ওপর কেমন একটা মায়া পড়ে গেছে ! লোকটা প্রচুর বাজে বকে ঠিকই, তবু লোকটার মন ভালো! আর হাজার হলেও ভুলোদা সূত্রে লোকটা দলের একজন হয়ে গেছিলো!
যাইহোক,সেদিন তো হীরুদার রান্না ভাত -ডিমের ঝোল খেয়ে খানিকক্ষণ -গুলতাপ্পি মেরে ফিরে এলাম!
বোম পড়লো দুদিন পর, ভুলোদার জরুরি তলবে! ভুলোদার বাড়িতে গিয়ে দেখি সক্কলে হাজির! বকুল, স্যান্ডা, শুচিস্মিতাদি সমেত হীরুদা, রাজু, মিকিভাই এবং একটি নতুন ছেলে, যাকে আমি চিনি না! রাজু দেখি 'থ' মেরে দাঁড়িয়ে আছে!
আমায় দেখে একপাশে ডেকে নিয়ে বললো,"ও বুড়োদা, এই তো সেই আকাশ!"
ভুলোদা সকলের জন্য আজ অনেকদিন পর নিজে হাতে লেগ-ফ্রাই বানিয়েছেন। নিয়ে এলেন! আজ ভুলোদা নিজের ওই বড়ো চাকা ওয়ালা চেয়ারটাতেই বসেছেন, আমরা সোফা টুল যে যা পেরেছি দখল করে বসে।
হীরুদা গলা সামান্য নামিয়ে বললো, "কেসটা কি হচ্ছে বলতো? সূচি সব জানে, তাও বলছে না! ভুলোদা ওকে কাল ফোন করেছিল, আজ দুজনে মিলে সারাদিন ধরে প্রচুর রান্না টান্না করেছে! রাতেও এখানেই খাবে সকলে ! বকুল ও কিস্সু জানে না!"
আমি আর রাজু ঘাড় নাড়লাম! জানি না! ভুলোদাকেই বলতে দেওয়া হোক!
ভুলোদা একটু গলাখাঁকারি দিয়ে শুরু করলেন, " তোমরা যারা এখানে আছো, সকলেই আমার খুব প্রিয়, আমার একমাত্র আপনজন। আজ সেই আপনজনদের মধ্যে দুজন নিজেদের মধ্যে ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে, আমি খুব খুশি! হীরেন, সৌনক, তোমাদের দায়িত্ব বেড়ে গেলো কিন্তু ! এবার একটা না, দুটো বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে! কল্পতরুবাবু আজ আমাদের সকলকে সাক্ষী রেখেছে স্যান্ডার সাথে রেজিস্ট্রিটা করে নেবেন! স্যান্ডার তরফ থেকে ওর ছেলেবেলার বন্ধু আকাশ আছে, আর স্যান্ডা চায়, ওর রাখি-ভাই রাজর্ষি সই করুক, কল্পতরুর তরফে আমি আর হীরেন সই করবো! একটু পরেই উকিলকাকা এসে যাবেন..."
আমি জানি না আমার মুখের মানচিত্র কেমন ছিল এতসব শুনে টুনে, হীরুদার মুখে একটা টারান্টুলা ঢুকে গেলেও অবাক হতাম না এত বড়ো হাঁ হয়ে গেছিলো ওর মুখ! রাজুকে দেখে মনে হচ্ছিলো ও কিছু বুঝে উঠতে পারছে না! মিকিভাই বিশাল গর্দানের মধ্যে মাথাটা প্রায় লুকিয়ে ফেলতে পারলে বেঁচে যান এত লজ্জা পেয়েছেন! স্যান্ডা আর শুচিস্মিতাদি পিকচার থেকেই আউট!
তারপর? তারপর আর কি! উকিলকাকা এলেন, স্যান্ডাকে শাড়ি পরিয়ে নিয়ে এলো শুচিস্মিতাদি, খাওয়া দাওয়া হলো, সই-টই ও! মিকিভাই চুপিচুপি জানিয়ে গেলেন তাঁর বিয়ের থিম-'শখের সকার'-"পুরো ফুটবল বেসড থিম, বুঝলে ভাই, একদম!"
বাড়ি ফেরার সময় রাজু আর আমি একসাথে বেরিয়েছিলাম, বাস-রাস্তায় এসে আলাদা হওয়ার আগে রাজু বললো,"বুঝলে বুড়োদা, খুব ভালো লাগছে, খুউব ভালো লাগছে...."
হীরুদা প্রথম খবরখানা দেয়; হীরুদা আর আমাদের শুচিস্মিতাদিদি সেদিন গড়ের মাঠে হাওয়া খেতে গেছিলো বোধয়, হীরুদা মোষখাটালের ম্যানেজার হওয়ার পর থেকে ওরকম প্রায়ই যাচ্ছে ওরা ! বলে কিনা ভুলোদার সাধের সেকেন্ডহ্যান্ড মারুতিখানায় চড়ে ভুলোদার নতুন ফিটনেস ট্রেনার মিস স্যান্ডা আর আমাদের মিকিভাইও গড়ের মাঠে চক্কর কাটছে!
আমি আর রাজু মিস স্যান্ডার কেসটা জানতাম; মিকিভাইএর মতে, ভুলোদার বিয়ের থিম, 'বিগ বং' যেহেতু দাদার বিশাল বপুর কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে, ভুলোদা যাতে কিছুতেই রোগা না হয়ে যায়, তার জন্যে ভুলোদার উচিত বিয়ে পর্যন্ত ফিগার মেনটেন করা! অতঃপর তাঁরই সুপারিশে মিস স্যান্ডার আগমন!
মিস স্যান্ডা সুন্দরী, তন্বি এবং বাপ্-মা প্রদত্ত সন্ধ্যা নামখানার পক্ষপাতী নন। কিন্তু স্রেফ এই বলে মিস স্যান্ডাকে বর্ণনা করা সম্ভব হবে না! বেশি জটিল না করে শুধু এইটুকু বলি, স্যান্ডার আগমনী গান বাজতেই আমি সুগন্ধার সৌরভ প্রায় ভুলতে বসেছিলাম; রাজুর চাকরির প্রিপারেশনের জন্যে বার বার করে ভুলোদার হেল্প নেওয়ার দরকার পড়ছিলো, আর সেটাও কিনা কাক-ভোরে আর বিকেলগুলোতে যখন ভুলোদার ডায়েট চার্ট ধরে ব্রেক -ফাস্ট আর ডিনার খাওয়া হচ্ছে কিনা দেখতে স্যান্ডা হাজির থাকতো! আর হীরুদা বেচারা , লাইসেন্সের অভাবে আড়চোখে চেয়ে চেয়ে প্রায় টেরা হয়ে যেতে বসেছিল !!
যাই হোক, আমাদের এই বাঁদরামি বেশিদিন চলেনি, হীরুদার চোখ তো শুচিস্মিতাদি দায়িত্ব নিয়ে সরিযে এবং সারিয়ে ফেলে দিন তিনেকের মধ্যেই, রাজুকে স্যান্ডা রাখির দিন রাখি পরিয়ে দিলো, আর আমার তো বিষে বিষক্ষয় হলো একদিন রাস্তায় সুগন্ধাকে পাড়ারই যাদবপুরিয়া এঞ্জিনিয়ার তন্ময়ের সঙ্গে ফুচকা খেতে দেখে ! দুঃখের চোটে স্যান্ডা সন্ধ্যার আলোর মতো ভ্যানিশ!
বকুল কিছুদিনের জন্যে বাড়ি গেছে, সে এই সান্ধ্য-রেসে অংশই নেয় নি!
কিন্তু তাই বলে অমন ৩৬-২৪-৩৬ মেয়ের সাথে ৪৬-৪৬-৪৬ মিকিভাইকে বারবার বহুবার দেখা যেতে দেখলে কিরীটি -ব্যোমকেশের চেলারা কদিন আর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে? চাকরির এই আকালে সময় কাটাতে আমাদের মতো ফেল্টু গ্রাজুয়েটদের ফেলুদারাই তো ভরসা....
তো দিনকতক একটু ঘুরঘুর শুরু করলাম, ভুলোদার পাড়ায় এবং ভুলোদার শ্বশুরবাড়ির পাড়ায়। বকুলের পিছনে টিউশনে গলার রক্ত মুখে আনা পয়সা খরচ হলো আমার এবং রাজুর দুইজনারই! কিন্তু কৌতূহল বড়ো দায়, বিশেষত বেকার জীবনে।
তিন দিন পর রাজুর ফোন, "বুড়োদা, খবর আছে, আজ সন্ধ্যাবেলা হীরুদার বাড়ি।" খবর আমারও ছিল, কাজেই সন্ধ্যেবেলা সন্ধ্যার রহস্য-উন্মোচনে হাজির হলাম হীরুদার বাড়ি।
হীরুদা একলা থাকে, ছোট্ট একখানা ফ্ল্যাটে। ভাড়া করে, সেই কলেজ আমল থেকে। ভুলোদার সাথে আলাপ হওয়ার আগে এটাই ছিল আমাদের 'ডেন'! একদিকে ছড়ানো বই খাতা, একটা তার ছেঁড়া গিটার, একপাশে খাটে ছড়ানো কলেজের টেক্সট বই থেকে ইদানিংয়ের 'তিনদিনে টেট পাশ'! তারই মধ্যে ধুলো টুলো ঝেড়ে বসা গেলো।
রাজুর উৎসাহ চরমে। হিয়ার(রাজুর 'প্রাক্তন চাপ') পরে ওর হিয়াতেই আঘাত বেশি করেছে কিনা স্যান্ডা! হীরুদা চা বসিয়েছে কি বসায়নি , শুরু হয়ে গেলো! "আরে, বাবা রিসেন্টলি একটা চাকরির কোচিঙে ভর্তি করেছে, 'সরকারদার সরকারি চাকরির প্রশিক্ষণ ', সেইখানে যাচ্ছি সন্ধ্যেবেলা এই সপ্তা থেকে। একটা ছেলে আসে, বাইকে চেপে। ইয়া বডি মালটার !আকাশ নাম। কাল কোচিং শেষ হয়েছে, দেখি স্যান্ডা বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। নটা মতো হবে তখন! আমি কথা বলতে যাবো যাবো, এমনি সময় সে আকাশের বাইকে চেপে হুউস! একদম লিপ্টে বসে দুজনে, আর দুজনাতেই বিশাল খুশি....কেসটা জন্ডিস লাগছে হীরুদা!"
হীরুদা আমাদের দিকে চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে বললো, "মিকিভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলুম,কিছু বললো না তেমনি, লাজুক লাজুক হাসি দিয়ে বেরিয়ে গেলো"
আমার খবরটা ওদের দিলাম, সোর্স বকুল, মিকিভাইকে নাকি দিনকয়েক আগে জাভেদ হাবিব থেকে বেরোতে দেখা গেছে, স্পাইক ছেড়ে মিকিভাই নাকি আজকাল চুল রাখার চেষ্টায় আছেন, সঙ্গে হাফ-প্যান্ট ছেড়ে ডেনিম ধরেছেন! আর স্যান্ডা মিকিভাইয়ের টিমে নতুন আমদানি। আগে একটা ছেলে ছিল ফিটনেস ট্রেনার ! সে ছেড়ে দিয়েছে রিসেন্টলি!
রাজু খুব মাথা-টাথা নাড়িয়ে বললো, "ইস, মিকিভাইটাও আমাদের দলে নাম লিখতে চলেছে! আজকালকার দিনে কি অবস্থা! একটা সফল প্রেমও কি নামে না!"
আসলে মনে মনে খুশি হয়েছি না দুঃখ পেয়েছি ঠিক বুঝলাম না! পাপী মন, নিজের সুখের চেয়েও অন্যের দুঃখ দেখতে বেশি ভালোলাগে! তবু, মিকিভাইয়ের ওপর কেমন একটা মায়া পড়ে গেছে ! লোকটা প্রচুর বাজে বকে ঠিকই, তবু লোকটার মন ভালো! আর হাজার হলেও ভুলোদা সূত্রে লোকটা দলের একজন হয়ে গেছিলো!
যাইহোক,সেদিন তো হীরুদার রান্না ভাত -ডিমের ঝোল খেয়ে খানিকক্ষণ -গুলতাপ্পি মেরে ফিরে এলাম!
বোম পড়লো দুদিন পর, ভুলোদার জরুরি তলবে! ভুলোদার বাড়িতে গিয়ে দেখি সক্কলে হাজির! বকুল, স্যান্ডা, শুচিস্মিতাদি সমেত হীরুদা, রাজু, মিকিভাই এবং একটি নতুন ছেলে, যাকে আমি চিনি না! রাজু দেখি 'থ' মেরে দাঁড়িয়ে আছে!
আমায় দেখে একপাশে ডেকে নিয়ে বললো,"ও বুড়োদা, এই তো সেই আকাশ!"
ভুলোদা সকলের জন্য আজ অনেকদিন পর নিজে হাতে লেগ-ফ্রাই বানিয়েছেন। নিয়ে এলেন! আজ ভুলোদা নিজের ওই বড়ো চাকা ওয়ালা চেয়ারটাতেই বসেছেন, আমরা সোফা টুল যে যা পেরেছি দখল করে বসে।
হীরুদা গলা সামান্য নামিয়ে বললো, "কেসটা কি হচ্ছে বলতো? সূচি সব জানে, তাও বলছে না! ভুলোদা ওকে কাল ফোন করেছিল, আজ দুজনে মিলে সারাদিন ধরে প্রচুর রান্না টান্না করেছে! রাতেও এখানেই খাবে সকলে ! বকুল ও কিস্সু জানে না!"
আমি আর রাজু ঘাড় নাড়লাম! জানি না! ভুলোদাকেই বলতে দেওয়া হোক!
ভুলোদা একটু গলাখাঁকারি দিয়ে শুরু করলেন, " তোমরা যারা এখানে আছো, সকলেই আমার খুব প্রিয়, আমার একমাত্র আপনজন। আজ সেই আপনজনদের মধ্যে দুজন নিজেদের মধ্যে ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে, আমি খুব খুশি! হীরেন, সৌনক, তোমাদের দায়িত্ব বেড়ে গেলো কিন্তু ! এবার একটা না, দুটো বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে! কল্পতরুবাবু আজ আমাদের সকলকে সাক্ষী রেখেছে স্যান্ডার সাথে রেজিস্ট্রিটা করে নেবেন! স্যান্ডার তরফ থেকে ওর ছেলেবেলার বন্ধু আকাশ আছে, আর স্যান্ডা চায়, ওর রাখি-ভাই রাজর্ষি সই করুক, কল্পতরুর তরফে আমি আর হীরেন সই করবো! একটু পরেই উকিলকাকা এসে যাবেন..."
আমি জানি না আমার মুখের মানচিত্র কেমন ছিল এতসব শুনে টুনে, হীরুদার মুখে একটা টারান্টুলা ঢুকে গেলেও অবাক হতাম না এত বড়ো হাঁ হয়ে গেছিলো ওর মুখ! রাজুকে দেখে মনে হচ্ছিলো ও কিছু বুঝে উঠতে পারছে না! মিকিভাই বিশাল গর্দানের মধ্যে মাথাটা প্রায় লুকিয়ে ফেলতে পারলে বেঁচে যান এত লজ্জা পেয়েছেন! স্যান্ডা আর শুচিস্মিতাদি পিকচার থেকেই আউট!
তারপর? তারপর আর কি! উকিলকাকা এলেন, স্যান্ডাকে শাড়ি পরিয়ে নিয়ে এলো শুচিস্মিতাদি, খাওয়া দাওয়া হলো, সই-টই ও! মিকিভাই চুপিচুপি জানিয়ে গেলেন তাঁর বিয়ের থিম-'শখের সকার'-"পুরো ফুটবল বেসড থিম, বুঝলে ভাই, একদম!"
বাড়ি ফেরার সময় রাজু আর আমি একসাথে বেরিয়েছিলাম, বাস-রাস্তায় এসে আলাদা হওয়ার আগে রাজু বললো,"বুঝলে বুড়োদা, খুব ভালো লাগছে, খুউব ভালো লাগছে...."
No comments:
Post a Comment