--হ্যালো।
--ভুলোদা বলছ?
--বকুল তোর কোন আক্কেল নেই? আমি বিয়ে করব বলে চার ঘণ্টা বসে আছি। খিদের চোটে এই ভর শীতেও কোলাব্যাঙগুলো হাইবারনেশন থেকে বেরিয়ে এসে পেটের ভিতর ফড়িং খাই, ফড়িং খাই করে বেড়াচ্ছে। আর তুই এখনও বৌদিকে নিয়ে পৌঁছুলি না! নাহয় আমি প্রিয়তমার মুখ না দেখা পর্যন্ত নির্জলা উপোস করব ঠিক করেছি। কিন্তু তাই বলে আমাকে দিয়ে অনশন করানর প্ল্যান ছিল তোর! ফোনটা পর্যন্ত সুইচ অফ করে রেখেছিস। আর কতক্ষন এই ব্যাঙের নাচ সহ্য করতে হবে বল তো।
--জানিনা ভুলোদা। হয়ত সারাজীবন...
--মানে? কোথায় এখন তুই?
--হাসপাতালে। মাথাটা এখনও টনটন করছে।
--কী হয়েছে? কোন অ্যাক্সিডেন্ট নয়তো? ও ঠিক আছে তো?
--সে আর নেই ভুলোদা।
--মানে!!!
--হ্যাঁ ভুলোদা। সে চলে গেছে।
--কী বলছিস?? আমার...
--হ্যাঁ ভুলোদা। শেষে জোর করাতে যাবার সময় আমার মাথায় লাঠির বাড়ি মেরে গেছে।
--মানে! আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। আমার কিন্তু ইয়ার্কি সহ্য হচ্ছে না।
--রাস্তায় আসতে আসতে বৌদি আমায় গাড়ি দাঁড় করাতে বলল। আমি গাড়ি দাঁড় করাতেই সে বলল, 'বকুল, ওই কুমড়োপটাশটাকে বলে দিস আমি চললুম।' তারপর চোখ খুলে দেখি হাসপাতালের বেডে শুয়ে ব্লাড নিচ্ছি। পাড়ার ছেলেরা চিনতে পেরে হাসপাতালে এনেছে। যাওয়ার সময় মাথা ফাটিয়ে দিয়ে গেছে আমার।
কিছুক্ষণ পর এক ভয়ানক আর্তনাদ শোনা গেল। কলাদার কানে তালা ধরে গেল। সুচিস্মিতাদি চেয়ার থেকে উলটে পড়ে গেল। কয়েকটা কাক ভয়ে উড়ে পালাতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মারা গেল।।
No comments:
Post a Comment