যাইহোক, গ্ৰুপ ডির পরীক্ষার ফর্ম তুলতে গিয়েছিলাম সেদিন। এমনিতে তো চিরকাল ডি পেয়েই পাশ করেছি। এককালে তো ভুলোদার কাছে ডি ফর ডানহিলে সুখটান দিতে দিতে ডি ফর 'পিসির' আলোচনা চলতো। ভাগ্য ভালো থাকলে মানুষ যেমন মাঝে মাঝে সি বা বি পেয়ে যায় আমাদেরও তেমনি মাঝে মধ্যে চিকেন, বাটারনান জুটে যেত। সেই আমি গ্রূপ ডির ফর্ম তুলবো এ তো ভবিতব্য।
কিন্তু ওই কথায় আছে না, অভাগা যেখানে যায়, হিরোশিমা হয়ে যায়। আমারো হল তাই। দিব্যি দাঁড়িয়ে ছিলাম স্কোয়াডে, হঠাৎ উলটে গেলাম। চোখ খুলে দেখি হাসপাতাল। একে তো ক'দিন ভুলোদার হাতের অমৃত খাওয়া হয়নি, তারপর পড়াশুনা করেছি ঢের। অভ্যাস না থাকলে যা হয়।
হাসপাতালের খাবার দিয়ে গেছে। সে খাবার এত সুস্বাদু যে অজ্ঞান মানুষও আরেকবার জ্ঞান হারাবে। কিন্তু কী আর করা যাবে। ভুলোদা তো আমায় ভুলেই গেছে, এখন জীবনধারণের জন্য এই খাবারই খেতে হবে।
কিন্তু ওই যে বলেছি, ভাগ্য ভালো থাকলে মানুষ যেমন মাঝে মাঝে সি বা বি পেয়ে যায়। হঠাৎ দেখলাম একটা রোগামত আলমারী, যার মাথায় একটা উলটানো বিরিয়ানির হাঁড়ি, তার উপর একটা পেল্লায় ঢাউস সাইজের হেডফোন আর হাতে আনন্দবাজার পত্রিকার সাইজের একটা ট্যাবলেট; এ যে আমাদের ভুলোদা ছাড়া কেউ হতেই পারে না তা আমি একটা ডানহিলের বাজি রেখে লিখে দিতে পারি।
আমি পরম নিশ্চিন্তে চোখ বুঝলাম। ভুলোদা আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, 'ভালো আছ?'
একটু অবাক হলাম বই ভুলোদার আমায় 'তুমি' সম্বোধনে। কিন্তু মানুষ মারা গেলে যদি তার সম্মান আকাশচুম্বী হয় তবে শরীর খারাপ হলে একটু তো বাড়তে পারেই। চোখ বন্ধ করেই বললাম, 'হ্যাঁ'
-সকালে ব্রেকফাস্ট করেছ?
-আর ব্রেকফাস্ট। দেখছ তো কী দিয়েছে।
-রেস্ট নাও। যা ধকল গেল তোমার।
-হ্যাঁ
-তোমার সাথে পরে কথা বলব। রাখি তাহলে?
কানের কাছে কে যেন বলে উঠলো, 'ওরে পামর, চেয়ে দেখ। তুই কোথাকার কে! ভুলোদা ভুলোবৌদির সাথে কথা বলছে, তোর সাথে নয়।' বুকের ভিতর নাগাসাকি এসে পড়লো।
চোখ খুললাম। ভুলোদার মুখে সেই আদি অকৃত্রিম হাসি। যে হাসি কয়েক হপ্তা আগে মা কালির স্থানান্তরণের আগে পর্যন্ত দেখেছিলাম। ভুলোদা বলল, তাড়াতাড়ি সেরে ওঠ। আমার বাড়িতে তোর নেমন্তন্ন আছে।
ডি ফর ডেঞ্জারই হবে কে বলেছে? ডি ফর দেবদূতও হয় মাঝেমধ্যে।।
No comments:
Post a Comment