ভুলোদার সাথে প্রথম আলাপ হয় কলেজের ইউনিয়ন অফিসে। হীরেনদা মানে হীরুদা
বারদুয়েক আর আমি একবার টেস্টে ফেল করার পর পরের বছরও যখন পরীক্ষায় দায়িত্ব
নিয়ে ধেড়িয়েছি,আমাদের তিননম্বর মক্কেল রাজু অর্থাৎ রাজর্ষি প্ল্যানটা
দিয়েছিলো। রাজুটা এমনিতে ছেলে ভালো, পাস-টাস করে, তাও বেশিরভাগ সময়েই না
টুকে! ওই বললো,"বুড়োদা, যা পরীক্ষা হয়েছে বলছো, পাস করবে বলে তো মনে হয় না,
হীরুদাকে নিয়ে একবার ইউনিয়ন অফিসটা ঘুরে এসো, তোমরা কলেজে রয়ে গেলে আমার
ডিগ্রী নিতে লজ্জা করবে,মাইরি বলছি!"
ভুলোদা তখন পার্টি করে। কলেজ ছেড়ে বেরিয়েছে বহুদিন, তাও মায়া কাটেনি। এমনিতেও ভুলোদার মায়া একটু বেশি! আমার আর হীরুদার দায়িত্ব নিয়ে ফেলেছিলো সেইদিনই! তারপর কলেজ শেষ হতে আমাদের চক্করে রাজুরও যখন কিস্যু চাকরি-বাকরি জুটলো না, আমাদের তিন বাপে খেদানো-মায়ে তাড়ানো বন্ধুর চা-সিগারেট থেকে মুরগি-মটন জোটানোর দায়িত্বটাও সযত্নে নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিলো। আমরাও, সুবোধ ছেলের মতো কলেজ ক্যান্টিন থেকে ভুলোদার ড্রয়িং রুমে শিফট করে গেলাম!
কিন্তু এইবার মনে হচ্ছে সেই পাট চুকলো! তাই দুঃখের কাহিনী বলতে আসা, যদি সমব্যাথী পাওয়া যায়!
ভুলোদার তিনকূলে একটা খ্যাঁকখ্যাকে নেড়ি কুত্তা ছাড়া কেউ নেই; বিশাল মাইনের চাকরি করে, টাকা খরচের জায়গা পায় না, অসাধারণ রান্নার হাত! সময়কালে ভুলোদা মেয়েদের জায়গায় পার্টিকে বেশি সময় দিয়ে ফেলায় প্রেম-ট্রেমের অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে!
এহেন ভুলোদা কিছুদিন আগে তেত্রিশ বছর বয়সে প্রথম প্রেমে পড়েছেন ! আর পড়েছেন মানে কি! এক্কেরে পপাত চ এবং মমার চ! আমাদের মধ্যে হীরুদা অভিজ্ঞতা এবং লাল্টু চেহারার দৌলতে একখান প্রেম নামিয়েছে সফল ভাবে, আমার আর রাজুর কেবল দাগাই সার! সেই আমাদের ধরে বসিয়ে 'এক পলকে একটু দেখা' থেকে শুরু করে 'না না তুমি বলো' পর্যন্ত সঅঅব গল্প শোনানো দিয়ে ভুলোদার 'সস্নেহ' অত্যাচার শুরু হয়েছিল! এতদিনকার চিকেন-কষা আর ডানহিলের ঋণ শোধ করছি ভেবে ওগুলোকে হজম করছিলাম কোনোরকমে; হঠাৎ করে একদিন শুরু হলো ফোনাফুনি!
আগে ভুলোদার ড্রয়িং রুমে কাশ্মীর সমস্যা থেকে শুরু করে পাড়ার কোন মেয়েকে কার সাথে কোথায়দ দেখা গেছে এইসব রসালো আলোচনার সাথে ভুলোদার হাতে তৈরি অমৃত সমান লেগ-ফ্রাইতে কামড় বসাতাম! এখন ভুলোদা আমরা গেলে পাড়ার মোড়ের দোকান থেকে আলুর চপ আনিয়ে দেয়, আর তারপর নিজে ছাতে উঠে যায় ফোন কানে দিয়ে! অপমান! অপমান!
তার মধ্যে ভুলোদা সিগারেট ছাড়বে বলে কথা দিয়েছে বৌদিকে,আপাতত 'রোজ খাওয়ার পরে একটা!' যার দৌলতে কোনোদিন সিগারেটের জন্যে এক পয়সা খরচ হয় নি, তাকে আজকাল গাঁটের কড়ি খসিয়ে কেনা সিগারেট খাওয়াতে হচ্ছে! যতক্ষণ ভুলোদা ফোন করে না, হোয়াটসআপ বাজতে থাকে টিং টিং! ভুলোদা নিজের নাম সার্থক করে আমাদের ভুলেই গেছে!
তার উপর ভুলোদার মাথায় চেপেছেন সাক্ষাৎ সরস্বতী! কাব্য-সরস্বতী ! আমি একটু লিখি-টিখি বলে আবার সেসব আমাকেই শুনতে হয়! 'বুইলে কিনা সৌনক,(আমার ভালো নাম; ভুলোদা আবার রাজনীতি করা মানুষ কিনা, সবাইকে তুমি করে কথা বলে আর ভালো নামে ডাকে!)আজ আরেক-খান ভাব মাথায় এলো; লোডশেডিং,ভ্যাপসা গরম.কিন্তু ও কথা বলছে বলে একদম ফুরফুরে বসন্ত লাগছে! নামিয়ে ফেলি কি বলো? ভ্যাপসা গরমটার ইম্পোর্ট্যান্স খানা বুঝছো তো?..'
আর ইম্পোর্ট্যান্স! বাংলার পাঁচের মতো মুখ করে পাঁচ মিনিট ধরে ভুলোদার সাথে বাংলা সাহিত্যে উপেক্ষিত ভ্যাপসা গরমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনার পর আমি তখন নিজের নামের ইম্পোর্ট্যান্স খানাই ভুলে মেরে দিয়েছি!
যাইহোক! এইসব কথা যেন ভুলোদার কানে তুলবেন না কেউ! বড়ো দুঃখে বলা এসব! আগামী ফাল্গুনে ভুলোদার শুভ-বিবাহ! কব্জি ডুব্বে সাঁটাতে হবে সেইসময়!
ভুলোদা তখন পার্টি করে। কলেজ ছেড়ে বেরিয়েছে বহুদিন, তাও মায়া কাটেনি। এমনিতেও ভুলোদার মায়া একটু বেশি! আমার আর হীরুদার দায়িত্ব নিয়ে ফেলেছিলো সেইদিনই! তারপর কলেজ শেষ হতে আমাদের চক্করে রাজুরও যখন কিস্যু চাকরি-বাকরি জুটলো না, আমাদের তিন বাপে খেদানো-মায়ে তাড়ানো বন্ধুর চা-সিগারেট থেকে মুরগি-মটন জোটানোর দায়িত্বটাও সযত্নে নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিলো। আমরাও, সুবোধ ছেলের মতো কলেজ ক্যান্টিন থেকে ভুলোদার ড্রয়িং রুমে শিফট করে গেলাম!
কিন্তু এইবার মনে হচ্ছে সেই পাট চুকলো! তাই দুঃখের কাহিনী বলতে আসা, যদি সমব্যাথী পাওয়া যায়!
ভুলোদার তিনকূলে একটা খ্যাঁকখ্যাকে নেড়ি কুত্তা ছাড়া কেউ নেই; বিশাল মাইনের চাকরি করে, টাকা খরচের জায়গা পায় না, অসাধারণ রান্নার হাত! সময়কালে ভুলোদা মেয়েদের জায়গায় পার্টিকে বেশি সময় দিয়ে ফেলায় প্রেম-ট্রেমের অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে!
এহেন ভুলোদা কিছুদিন আগে তেত্রিশ বছর বয়সে প্রথম প্রেমে পড়েছেন ! আর পড়েছেন মানে কি! এক্কেরে পপাত চ এবং মমার চ! আমাদের মধ্যে হীরুদা অভিজ্ঞতা এবং লাল্টু চেহারার দৌলতে একখান প্রেম নামিয়েছে সফল ভাবে, আমার আর রাজুর কেবল দাগাই সার! সেই আমাদের ধরে বসিয়ে 'এক পলকে একটু দেখা' থেকে শুরু করে 'না না তুমি বলো' পর্যন্ত সঅঅব গল্প শোনানো দিয়ে ভুলোদার 'সস্নেহ' অত্যাচার শুরু হয়েছিল! এতদিনকার চিকেন-কষা আর ডানহিলের ঋণ শোধ করছি ভেবে ওগুলোকে হজম করছিলাম কোনোরকমে; হঠাৎ করে একদিন শুরু হলো ফোনাফুনি!
আগে ভুলোদার ড্রয়িং রুমে কাশ্মীর সমস্যা থেকে শুরু করে পাড়ার কোন মেয়েকে কার সাথে কোথায়দ দেখা গেছে এইসব রসালো আলোচনার সাথে ভুলোদার হাতে তৈরি অমৃত সমান লেগ-ফ্রাইতে কামড় বসাতাম! এখন ভুলোদা আমরা গেলে পাড়ার মোড়ের দোকান থেকে আলুর চপ আনিয়ে দেয়, আর তারপর নিজে ছাতে উঠে যায় ফোন কানে দিয়ে! অপমান! অপমান!
তার মধ্যে ভুলোদা সিগারেট ছাড়বে বলে কথা দিয়েছে বৌদিকে,আপাতত 'রোজ খাওয়ার পরে একটা!' যার দৌলতে কোনোদিন সিগারেটের জন্যে এক পয়সা খরচ হয় নি, তাকে আজকাল গাঁটের কড়ি খসিয়ে কেনা সিগারেট খাওয়াতে হচ্ছে! যতক্ষণ ভুলোদা ফোন করে না, হোয়াটসআপ বাজতে থাকে টিং টিং! ভুলোদা নিজের নাম সার্থক করে আমাদের ভুলেই গেছে!
তার উপর ভুলোদার মাথায় চেপেছেন সাক্ষাৎ সরস্বতী! কাব্য-সরস্বতী ! আমি একটু লিখি-টিখি বলে আবার সেসব আমাকেই শুনতে হয়! 'বুইলে কিনা সৌনক,(আমার ভালো নাম; ভুলোদা আবার রাজনীতি করা মানুষ কিনা, সবাইকে তুমি করে কথা বলে আর ভালো নামে ডাকে!)আজ আরেক-খান ভাব মাথায় এলো; লোডশেডিং,ভ্যাপসা গরম.কিন্তু ও কথা বলছে বলে একদম ফুরফুরে বসন্ত লাগছে! নামিয়ে ফেলি কি বলো? ভ্যাপসা গরমটার ইম্পোর্ট্যান্স খানা বুঝছো তো?..'
আর ইম্পোর্ট্যান্স! বাংলার পাঁচের মতো মুখ করে পাঁচ মিনিট ধরে ভুলোদার সাথে বাংলা সাহিত্যে উপেক্ষিত ভ্যাপসা গরমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনার পর আমি তখন নিজের নামের ইম্পোর্ট্যান্স খানাই ভুলে মেরে দিয়েছি!
যাইহোক! এইসব কথা যেন ভুলোদার কানে তুলবেন না কেউ! বড়ো দুঃখে বলা এসব! আগামী ফাল্গুনে ভুলোদার শুভ-বিবাহ! কব্জি ডুব্বে সাঁটাতে হবে সেইসময়!
No comments:
Post a Comment